Saturday, April 10, 2010

ষোড়শ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়

ভুটানে ২৮ ও ২৯ এপ্রিল শীর্ষ সম্মেলন, সই হবে তিন চুক্তি

রাহীদ এজাজ | তারিখ: ০৫-০৪-২০১০
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশের অব্যাহত বিপর্যয়ে চরমভাবে পর্যুদস্ত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়া। এ প্রেক্ষাপটে থিম্পুতে অনুষ্ঠেয় দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) শীর্ষ সম্মেলনে প্রাধান্য পাবে প্রাকৃতিক বিপর্যয় রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি। এবারকার সম্মেলনের প্রতিপাদ্যও তাই এ নিয়ে। দক্ষিণ এশিয়ার এই আট জাতি জোটের ষোড়শ শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘সবুজ ও সুখী দক্ষিণ এশিয়ার পথে’।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে তিনটি চুক্তি সইয়ের জন্য চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটিই পরিবেশ ও প্রাকৃতিক বিপর্যয় নিয়ে।

ভুটানের রাজধানীতে ২৮ ও ২৯ এপ্রিল বসছে আগামী সার্ক শীর্ষ সম্মেলন।

তিন চুক্তি: শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান অনীহা প্রকাশ করায় এবার আঞ্চলিক মোটরযান চলাচল নিয়ে চুক্তি সই হচ্ছে না। দক্ষিণ এশিয়ায় একটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ইউনিয়ন গঠনের প্রয়াস ওই চুক্তি সইয়ের পরিকল্পনায় ছিল। তবে এবারকার সম্মেলনে পরিবেশ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও বাণিজ্যসংক্রান্ত তিনটি চুক্তি সই হতে যাচ্ছে। চুক্তিগুলো হলো: সাফটায় সেবা বাণিজ্য (ট্রেড ইন সার্ভিসেস), প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা (সার্ক ন্যাচারাল ডিজাস্টার রেসপন্স মেকানিজম) ও পরিবেশ সহযোগিতাবিষয়ক সার্ক সনদ (সার্ক কনভেনশন অন কো-অপারেশন অন এনভায়রনমেন্ট)।

সম্মেলনে তিনটি চুক্তি সই ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিতে থিম্পুতে সার্ক উন্নয়ন তহবিলের (এসডিএফ) সদর দপ্তর উদ্বোধন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ-প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষায় সহযোগিতা: গত ১৭ ও ১৮ মার্চ ভুটানের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির বৈঠকে পরিবেশসংক্রান্ত চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়। দ্বাদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে এ অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষায় দ্রুত একটি কর্মপরিকল্পনা ও পরিবেশ চুক্তির খসড়া তৈরির ওপর দক্ষিণ এশিয়ার নেতারা গুরুত্ব দেন।

ন্যায্যতা, পারস্পরিক সহযোগিতা, প্রায়োগিক নীতি ও আইনের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার সম্প্রসারণ এ সনদ সইয়ের মূল লক্ষ্য।

চুক্তিতে বলা হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সদস্য-দেশগুলো তাদের নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা বাড়ানো ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হস্তান্তরে একে অন্যকে সহযোগিতা করবে। সহযোগিতার ক্ষেত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বনায়ন, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা, টেকসই জীবনধারণের জন্য পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা, ভূমিক্ষয় ও মরুকরণ, নদী ব্যবস্থাপনা, সমুদ্র ও বিশুদ্ধ পানির মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ব্যবস্থাপনার সামর্থ্য বাড়ানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বন্য প্রাণী সুরক্ষা ও এর অবৈধ বাণিজ্য রোধ, পানি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশের প্রভাব মূল্যায়নসংক্রান্ত গবেষণা, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা এবং পরিবেশের ওপর মানুষের কর্মকাণ্ডের প্রভাব।

জানা গেছে, চুক্তি সইয়ের পর সদস্য-দেশগুলো সরাসরি এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে সহযোগিতার জন্য কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণার ফলাফল নিজেদের মধ্যে বিনিময় করবে। কোন পদ্ধতিতে সদস্য-দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা হবে, সে বিষয়টি ঠিক করবে পরিবেশমন্ত্রীদের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পরিষদ। এ পরিষদ প্রতি দুই বছরে কমপক্ষে একবার এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বছরে একবার আলোচনায় বসবেন।
সহযোগিতার নীতিমালা তৈরির পাশাপাশি কীভাবে কাজ চলবে, সে নির্দেশনা দেবে পরিবেশমন্ত্রীদের নেতৃত্বাধীন এ পরিষদ। এ ছাড়া দেশগুলোর কাজের অগ্রগতি মূল্যায়ন, সহযোগিতার ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন, সমীক্ষা পরিচালনা, বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং প্রযুক্তি বিনিময়, সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা স্থাপন এবং সনদের প্রয়োজনে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে ওই পরিষদের কাজ। পরিষদের যেকোনো সিদ্ধান্ত হতে হবে সর্বসম্মত। কোনো বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হলে আলোচনার মাধ্যমে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
দুর্যোগ মোকাবিলা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা (সার্ক ন্যাচারাল ডিজাস্টার রেসপন্স মেকানিজম) সংক্রান্ত চুক্তিতে কোনো দেশে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলে দ্রুত সহযোগিতা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো দেশে যেকোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে সদস্য দেশগুলো দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করবে। এ ছাড়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়কবলিত দেশে অন্য দেশ থেকে লোকজন পাঠানোর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে পর্যুদস্ত দেশটির উদ্ধার ও সংস্কারকাজে পাঠানো যেতে পারে সামরিক ও বেসামরিক লোকজন।

বাণিজ্য: সাফটায় সেবা বাণিজ্য (ট্রেড ইন সার্ভিসেস) চুক্তি সইয়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলে বাণিজ্য উদারীকরণের পথ সুগম হবে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আংশিকভাবে বাণিজ্য উদারীকরণের পথে যাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো। চুক্তি সইয়ের পর প্রতিটি দেশকে বলতে হবে তারা কোন কোন খাত উন্মুক্ত করতে চায়। জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ব্যাংক, বিমাসহ আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠান ও টেলিযোগাযোগ খাত উন্মুক্ত হবে।

No comments: