Sunday, March 21, 2010

সুন্দরবনে আগুন

বাগেরহাট, মার্চ ২১ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের গুলিশাখালী ক্যাম্প সংলগ্ন পয়ষট্টি ছিলা এলাকার বনে আগুন লেগেছে।

শনিবার দুপুরের পর ওই এলাকায় আকাশে ধোঁয়া উঠতে দেখে বনকর্মীরা আগুন লাগার বিষয়টি টের পান। এর পরপরই তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন। তবে রোববার দুপুরেও প্রায় পাঁচ একর এলাকাজুড়ে আগুন জ্বলছিলো।

বনকর্মী, বনবিভাগের নিয়োগ করা শতাধিক শ্রমিক, দমকল বিভাগ ও স্থানীয় গ্রামবাসী আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানাতে পারেননি তারা।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মিহির কুমার দো ঘটনাস্থল থেকে রোববার দুপুরে মোবাইল টেলিফোনে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ভোলা নদীর পশ্চিম পাড়ে পয়ষট্টি ছিলা এলাকায় বনে আগুন লেগেছে।

৭০ জন বনকর্মী, শতাধিক শ্রমিক, গ্রামবাসী এবং দমকল বাহিনীর একটি ইউনিট আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে। যেখানে আগুন লেগেছে তারা চারপাশে ড্রেন কেটে (লাইন অব ফায়ার) আগুন নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

মিহির জানান, জোয়ারের সময় ওই এলাকার বনে পানি না ওঠায় এলাকাটি শুষ্ক থাকে। এখানে লতা-পাতা এবং গুল্ম জাতীয় সিংড়া ও বলা গাছ বেশি জন্মায়। এলাকায় খর্বাকৃতি কিছু সুন্দরী গাছও রয়েছে।

"আগুনে এ সব লতা, গুল্ম ও গাছ পুড়ে যাচ্ছে", বলেন তিনি।

ঘটনাস্থলের পার্শ্ববর্তী একটি খালে জোয়ারের সময়ে ওঠা পানি আটকে সেই পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভাতে কত সময় লাগবে তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না।

রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুব্রত কুমার শিকদার সাংবাদিকদের জানান, প্রায় চার-পাঁচ একর এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ২০টি স্থানে আগুন দেখা যাচ্ছে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উপপ্রধান বন সংরক্ষক (সামাজিক বনায়ন শাখা) এবং সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের সাবেক বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান জানান, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের উত্তর-পূর্ব কোনে ভোলা নদীর তীরবর্তী প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি এলাকায় বিভিন্ন স্থানে ভূ-ভাগ উঁচু হয়ে গেছে। এ সব জায়গায় জোয়ারের পানি ওঠে না।

তিনি বলেন, "শীতকালে এই এলাকায় বনের পাতা পড়ে ছয় থেকে নয় ইঞ্চি পর্যন্ত পুরু স্তর তৈরী হয়। আধাপচা এই পাতার ফাঁকে মিথেন গ্যাস জমে থাকে। ফেব্র"য়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত এ সব এলাকা শুষ্ক থাকে। এ সময় বন ব্যবহারকারীদের ফেলে যাওয়া বিড়ি-সিগারেট বা মৌয়ালদের মশালের আগুন থেকে অথবা প্রখর সূর্যতাপের কারণে শুকনো পাতা থেকে বনে আগুন ধরে থাকে। তাই প্রতি বছর বৃষ্টি না আসা পর্যন্ত ঐ সব এলাকায় এ ধরণের আগুনের সম্ভাবনা থাকে।

তিনি বলেন, প্রাকৃতিক কারণে সুন্দরবনের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। এটা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের একটি অংশ মাত্র। এই অবস্থা থেকে উত্তোরণের সহজ কোন পথ নেই।

২০০১ সালে সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জ নিয়ে স্বতন্ত্র সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত চাঁদপাই স্টেশন থেকে তেরাবেকা ক্যাম্প পর্যন্ত ভোলা নদীর তীরবর্তী কয়েকটি এলাকায় ফেব্র"য়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে অন্তত নয়টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে ২০০৪ সালে চাঁদপাই রেঞ্জের নাংলি ও আড়�য়ার খাল এলাকায়, ২০০৫ সালে একই রেঞ্জের কলমতেজি, ও ঘুটাবাড়িয়ায়, ২০০৬ সালে শরণখোলা রেঞ্জের তেরাবেকা, চাঁদপাই রেঞ্জের কলমতেজি, ধানসাগরের নাংলি এলাকায় এবং ২০০৭ সালে নাংলি এলাকার পচাকুড়ালিয়ায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ছাড়া ২০০২ সালে শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/প্রতিনিধি/কেএমএস/১৬০০ ঘ.

No comments: