Saturday, March 14, 2009

জাবিতে পাখি মেলা, উৎসবমুখর ক্যাম্পাস

:: bdnews24.com ::
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, মার্চ ১৩ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম) - পাখির কিচিরমিচির শব্দ, ডানা ঝাপটে বেড়ানো, সাঁতার কাটা, রোদে বসে শরীর শুকানোর দৃশ্য দেখতে সকাল থেকেই ভিড় জমতে থাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয়গুলোর পাড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে শিক্ষক-শিক্ষার্থী আর দর্শণার্থীদের পদচারণা। সেই সঙ্গে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।

প্রতি বছরের মতো এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ শুক্রবার ক্যাম্পাসে পাখি মেলার আয়োজন করে। সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরহাদ হোসেন কেন্দ্রীয় মিলনায়তনের সামনে মেলার উদ্বোধন করেন। তবে এর আড়াই ঘন্টা আগে সকাল সাড়ে ৭টাতেই শুরু হয়ে যায় মেলার কর্যক্রম। চলে সারাদিন ধরে।

শুরুতেই ছিল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা। এতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) প্রথম ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। পাখি চেনা প্রতিযোগিতায় (অডিও-ভিডিও এর মাধ্যমে) প্রথম স্থান অধিকার করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

এছাড়া পাখির আলোকচিত্র ও পত্র-পত্রিকা প্রদর্শনী, টেলিস্কোপ দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখির ছবি আঁকা, কুইজ প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

বিকেল ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মো. ফরহাদ হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সালাম ও মেলা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মফিজুল কবির।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছোট-বড় মিলিয়ে ১০/১২টি জলাশয় রয়েছে। এর মধ্যে জাহানারা ইমাম হল, প্রীতিলতা হল, আল-বেরুনী হল (বর্ধিতাংশ) এবং প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন জলাশয় দু'টিতে অতিথি পাখির উপস্থিতি চোখে পড়ে সবচেয়ে বেশি।

তাই অধিকাংশ দর্শনার্থীও ভিড় জমিয়েছিলেন এই জলাশয়গুলোর পাড়ে।

ঢাকার ধান্ডমন্ডি এলাকা থেকে মেলায় এসেছেন রফিক আহমেদ। নানা প্রজাতির পাখি দেখে পুরোপুরি মুগ্ধ তিনি।

তিনি বলেন, "এমনিতেই প্রকৃতি ও পাখি দেখে সময় কাটানোর মধ্যে অন্যরকম একটা আনন্দ রয়েছে। সেই আনন্দকে অনেকখানি বাড়িয়ে দিয়েছে এ মেলা।"

মেলা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মফিজুল কবির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, "পাখি সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশি-বিদেশি পাখির সঙ্গে পাখিপ্রেমীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর এ মেলা হচ্ছে।"


No comments: