Friday, March 13, 2009

উপকূলে রেণু পোনা শিকার ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য

।। বরিশাল অফিস ।।

দেশের দক্ষিণ উপকূলে রেণু পোনা নিধনের উৎসব চলছে। রেণু পোনা শিকার করতে গিয়ে ধ্বংস হচ্ছে মৎস্য সম্পদসহ সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য।

নভেম্বর মাস থেকে এ অঞ্চলে বাগদা রেণু সংগ্রহ শুরু হয়। বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ বাগদা শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন বাগদা রেণু শিকারের ভরা মৌসুম চলছে। তাই উপকূলের নদী-নালায় আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলেই ভিড় করছে টানা জাল, বাগদা জাল, গামছা, মশারি ও বেহুন্দি জাতীয় জাল নিয়ে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তারা রেণু পোনা শিকার করে নিয়ে আসছে সংশ্লিষ্ট আড়তগুলোতে। আড়ত থেকে তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সাতক্ষীরা, বাগেরহাটসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চিংড়ি ঘেরে। বাগদা রেণু আহরণ সাময়িকভাবে দক্ষিণাঞ্চলের অভাবী পরিবারগুলোকে আয়ের ব্যবস্থা করে দিলেও সামগ্রিকভাবে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ।

১৯৯৯ সালে উপকূলীয় সামুদ্রিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় এক জরিপে বলা হয়, উপকূলীয় পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, হাতিয়া ও সন্দ্বীপ এলাকায় প্রতিবছর ২৬ কোটি ৫৭ লাখ রেণু পোনা আহরণ করা হয়। জরিপে আরও বলা হয়, পোনা আহরণকারীদের সংখ্যা ৫ লক্ষাধিক। অপর একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বাগদা রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে ২১২ প্রজাতির পোনা নিধন হচ্ছে। একই সাথে ১ হাজার ১৯৬টি খাদ্যকণা ধ্বংস হচ্ছে। ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পরিচালিত জরিপে আহরিত বাগদা রেণু ও পোনা আহরণের জাল পরীক্ষা করে অসংখ্য জলজ প্রাণীর নমুনা সংগ্রহ করা হয়। যার মধ্যে বাগতারা, চাপদা, চাকা, হান্নিগোমা, বনসাই, ছটকা ও গলদা প্রজাতির চিংড়ি খরকুনো, ভাঙ্গন, ভেটকি, পাঙ্গাশ, বায়লা, লইট্টা, টেংরা ও পুঁটি মাছ ব্যাপকহারে মারা পড়ছে। এছাড়া কাঁকড়া, এমিলা, অ্যাসোপোর্ট, কপিপট, মাইসিটিস, এসিটিস জাতীয় খাদ্যকণা ধ্বংস হচ্ছে। নির্বিচারে রেণু পোনা শিকারের কারণে খাদ্যকণা ধ্বংসের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হচ্ছে। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমানায় ১৩৩ প্রজাতির মাছসহ অভ্যন্তরীণ খাল-বিল-পুকুরে ৪৭৫ প্রজাতির মাছ ছিল। এখন শতাধিক প্রজাতির মাছ খুঁজে পাওয়া যায় না বলে মৎস্য বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন। অপরিকল্পিত ও অবৈজ্ঞানিক উপায়ে রেণু পোনা সংগ্রহ করতে গিয়ে এসব মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বিলুপ্ত মাছের মধ্যে রয়েছে বনিয়া, খান্দিনা, বাটা, মহাশোল, মধু পাপদা, বালি পাপদা, বাঁশপাতা, কাজলী, বাতাসী, রাণী, গুতম, তারাবাইন, চিকড়া ভেদা, নাপিত কই, খলিসা, লাসা চান্দা, লাল চান্দা ও খলাসহ বিভিন্ন মাছ। ২০০০ সালে সাগর উপকূলে চিংড়ি পোনা শিকার নিষিদ্ধ করার জন্য রাষ্ট্রপতি আদেশ জারি করেন। কিন্তু ঐ আদেশের কোন বাস্তবায়ন না হওয়ায় নির্বিচারে বিভিন্ন প্রজাতির রেণু পোনা ধ্বংস চলছে।

No comments: