Thursday, October 30, 2008

বনে বাদাড়ে: নকশী কাছিম ওরফে রঙ্গিলা কাউট্টা

পেইন্টেড টার্টল (Painted turtle) নিয়ে যখন লেখার চিন্তা করি তখন খুজেঁ দেখি এর কোন বাংলা নাম নেই। তাই আগের পোস্টে নাম দিয়েছিলাম নকশী কাছিম। প্রিয় ব্লগার ধূসর গোধূলী প্রস্তাব করলেন এর নাম দেয়া হোক রঙ্গিলা কাউট্টা। বনে বাদাড়ে ঘুরে রঙ্গিলা কাউট্টার কয়েকটা ক্লোজ আপ ছবি পেয়েছি।

অন্য সব সরীসৃপের মতই কাছিম বা কচ্ছপ শীত রক্ত বিশিষ্ট প্রাণী। যার মানে হলো পরিবেশের তাপমাত্রা কমে গেলে এরা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা। যার ফলে এদেরকে নির্ভর করতে হয় সূর্যের আলোর দয়ার উপর। শীত এলে বা শীত না এলেও মাঝে মাঝেই এদের দেখা যায় পানির উপর উঠে গা শুকাতে। ব্যাপারটা শীতের বেলা বেশী হয় কারণ পানির নিচে তাপমাত্রা যথেষ্ট পরিমান কমে যায় বলেই গা গরম করতে উপরে উঠে আসা।

আমার ক্যামেরার লেন্স ছোটখাট। তাই দূর থেকে এদের ভার ছবি তোলা অসম্ভব। বাধ্য হয়েই বেছে নিতে হল ধৈর্যের পরীক্ষা। অজিবওয়ে নেচার পার্কে ঢুকেই সরাসরি চলে যাই ট্রেইল ছেড়ে, কিছুটা জংলা পথ ধরে জলাধারের পাশে।

লম্বা ঘাসের সারি আর নাম না জানা সব জংলি গাছ গাছালিতে ভরা জলাশয়ের পাড়। সহসাই কারো পা পড়েনি এখানে তা বেশ বোঝা যাচ্ছে। দুপুর শুরু হয়েছে মাত্র। গাছের পাতার ফাঁকে সারা বনে আলোছায়ার নাচন। আমি নি:শব্দে এগিয়ে যাই পাড়ের দিকে।

কাছিমেরা সাধারণত আধা-ডোবা গাছের খন্ড বা এমন কিছুর উপরে উঠে রোদ পোহায়। তাই খুব সাবধানে পা ফেলে এগুই। একটু দূরেই দেখি দুটোকে। আমার থেকে আনুমানিক ২০ গজের মত দূরত্বে। আমার যতটা বিদ্যা তাতে এটুকু জানি কাছিম রং ততটা চেনেনা যতটা বোঝে মুভমেন্ট। তাই দাঁড়িয়ে না থেকে ক্রল করে এগুতে থাকি আর একটা একট শট নেই। বলা তো যায়না কখন আবার পানিতে ডুব মারে। এভাবে প্রায় ১০ গজের মধ্যে চলে আসি। কয়েকটা ছবি নেই। প্রিভিউ দেখি কিন্তু মন ভরেনা। আরো কাছে যেতেই হবে।

_MG_0661
পেইন্টেড টার্টল বা নকশী কাছিম (Chrysemys picta)

ক্রল করে আরেকটু কাছে যেতেই ও দুটো ঝুপ করে নেমে যায় পানিতে। যাহ, সব গেলো। তার পরে শুরু হয় অপেক্ষার পালা। পানির ৪-৫ গজের মধ্যে চলে যাই। চুপচাপ ওভাবেই উপুর হয়ে শুয়ে থাকি আর ভাবতে থাকি মুক্তি যুদ্ধের কথা। মুক্তিবাহিনীর হাতে শুধু ছিল রাইফেল আর আমার হাতে ক্যামেরা। হা হা... একসময় ওটা ফিরে আসে। আধা জাগা কাঠের গুঁড়িটার উপরে আস্তে আস্তে উঠে বসে। আমি ঠিক দেখতে পাচ্ছি ওটা ঘাড় ঘুরে আমাকে দেখছে। কিন্তু আমি একদম নড়ছিনা। বেশ কয়েকটা ছবি তুলে নেই-- ভিন্ন ভিন্ন এক্সপোজারে।

নকশি কাছিম বা রঙ্গিলা কাউট্টা যাই বলিনা কেন, নামেই বোঝা যাচ্ছে এদের শরীর নিপূন হাতে রং করা। পেটের নিচের দিক হলুদ তার উপর চারকোনা চারকোনা নকশা করা। পিঠের শেল শক্ত, জলপাই রঙের। শেলের চারপাশে লাল রঙের নকশা। গলার উপর লম্বা লম্বি হলুদ রঙের স্ট্রাইপ মুখের দিক থেকে নেমে এসে শরীরের ভেতর ঢুকেছে। মাঝারি লেজ, লালচে হলুদ স্ট্রাইপ সেখানে। পা কালো রঙের এবং নখ যুক্ত।

এখানে শেষ করে আরেকটু সাময়ে এগুতেই দেখি চারটে কাছিম সামনে পিছনে করে রোদ পোহাচ্ছে। আমার নড়াচড়া দেখেই দুইটা ডুব মারলো। আধাঘন্টা বসে থেকেও ওদের আর দেখা পাইনি।

No comments: