Thursday, December 27, 2007

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কী করণীয়

জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের কী করণীয়
দৈনিক ইত্তেফাক, ডিসেম্বর ২৮, ২০০৭।

মতামত:

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ (অর্থনীতিবিদ)

পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের করার মতো সেরকম বিশেষ কিছু নেই। কেননা, বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত দায়ী উন্নত দেশগুলো। তবে বাংলাদেশ যা করতে পারে তা হলো জলাশয়গুলোকে দূষণের হাত থেকে রক্ষার প্রচেষ্টা চালাতে পারে, নদীগুলোকে খনন করতে পারে, বিকল্প জ্বালানি শক্তির ব্যবস্থা করতে পারে। জেনেটিক্যালি মোডিফাইড ফুড এগুলোকে বন্ধ করা প্রয়োজন, এগুলো জমি নষ্ট করে থাকে, উর্বরাশক্তি কমিয়ে দেয়। বসবাস স্থাপনা তৈরির ফলে ভূমি ও জলবায়ু আরো বেশি অপচয় ঘটছে তা যেন কমানো যায় সেদিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

জলবায়ুর পরিবর্তনে আমাদের দেশের যে সম্ভাব্য ক্ষতি কম হয় সে ব্যাপারে সচেতনতা একান্ত কাম্য। আমাদের দেশে এখন দিনে ৬০০টি গাড়ি রেজিস্টার হয়- এ বিষয়ে জলবায়ু পরিবর্তন রোধে যথার্থ নীতিমালা ও তার প্রয়োগ একান্ত জরুরী। নদী, বনায়ন ও জলাশয় এ যুগের সংরক্ষণ একান্ত জরুরি। ইতিমধ্যে এগুলোর যে ক্ষতি হয়েছে, সেটার প্রভাব আমাদের যতটা সম্ভব কমাতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে বাংলাদেশ ও তার প্রতিবেশি দেশগুলোর সাথে একযোগে কাজ করতে হবে।


দ্বিজেন শর্মা (পরিবেশবিদ)

পরিবেশ বিদ্যা এখন একটি বিজ্ঞান। আমাদের কালের উদ্ভিদবিদদের এ ব্যাপারে জ্ঞানগম্মি ততোটা নেই। তবে বর্তমান পরিস্থিতির চাপে তারাও এনিয়ে না ভেবে পারেন। পরিবেশ সমস্যার দু’টো বাস্তবতা বৈশ্বিক ও দেশিক। প্রথমটি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দ্বিতীয়টিতেও আমাদের যে খুব নিয়ন্ত্রণ আছে তা বলা যাবে না। কারণ, উন্নয়নশীল দেশের শিল্পন্নোয়ন ছাড়া উন্নতি অসম্ভব। এরকম বলা হয়ে থাকে যে, উন্নয়নশীল বিশ্ব বর্তমান পর্যায়ে উন্নত বিশ্বের শিল্পোন্নতির পর্যায়ে পৌঁছুলে বাতাসে কোন অক্সিজেন থাকবে না। এখন বিশ্ব উষ্ণায়ন আমাদের জন্য একটি বিরাট বিপদ নিয়ে আসছে। আমাদের উপকূল অঞ্চলে লবণাক্ততা বাড়ছে এবং হয়তো আগামী ৫০ বছরে আমাদের নিম্নাঞ্চল সমুদ্রে ডুবেও যেতে পারে। আমাদের পক্ষে এই বিপর্যয় মোকাবিলা কঠিন হয়ে পড়বে। পরিবেশ সমস্যা আমাদের সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে জড়িত। কৃষি থেকে শিল্প সভ্যতায় উত্তরণের পর ক্রমাগত দূষণ বাড়ছে। বাণিজ্য নির্ভর গণতান্ত্রিক সভ্যতা পুঁজির তাড়নায় শিল্পোন্নয়ন থেকে কিছুতেই পিছিয়ে আসতে পারবে না। আমরা সমাজতান্ত্রিক সভ্যতার উপর ভরসা করেছিলাম। কিন্তু, সেটাও শিল্প সভ্যতা বলে কোন হেরফের ঘটেনি। সকল মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে প্রচলিত শিল্পোন্নয়ন চিন্তার বাইরে আর কোন পথ তারা দেখেনি। ফলত সোভিয়েত ইউনিয়নে আরব সাগর শুকিয়ে যাওয়াসহ বড় বড় পরিবেশ বিপর্যয় ঘটে।

অতঃপর পথ কী? পশ্চিমের পরিবেশ আন্দোলন দ্বিধাবিভক্ত। একদল মনে করেন ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প দূষণ অনেকটা কমিয়ে আনা ও বর্তমান শিল্পোন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা যাবে। র‌্যাডিক্যাল পরিবেশবাদীরা ভিন্ন কথা বলেন। তারা চান উৎপাদন ও পরিভোগের আমূল পরিবর্তন। এই ধারণা অত্যন্ত বৈপ্লবিক, আদৌ সম্ভবপর কীনা তাতে সন্দেহ স্বাভাবিক। হতে পারে এ দু’য়ের মধ্যে কোথাও আশার সম্ভাবনা নিহিত আছে। তবে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই যে, গোটা বিশ্বকে স্বার্থানুকূল্যে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশ নির্বিশেষে একযোগে আন্তরিকতাসহ এ সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে। ০


সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ (সাবেক সচিব)

বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু সমস্যাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্তমানের এই স্বাভাবিক সমুদ্র স্তর যদি এক মিটার বেড়ে যায়, তবে আগামী তিন/চার দশকের মধ্যে আমাদের বাংলাদেশের শতকরা ২০ ভাগ ভূমি সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এর ফলে দেশের ৪ থেকে ৫ কোটি মানুষ (৬ কোটিও হতে পারে) তারা বাড়ি-ঘর হারাবে, জমি হারাবে অর্থাৎ একেবারেই নিঃস্ব হয়ে পড়বে। তাদেরকে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গায় সরানোর পরিকল্পনা আমাদের কিছুটা আগাম পরিকল্পনা ও চিন্তা-ভাবনা রাখতে হবে।

আমি মনে করি পৃথিবীর জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য মূলত শিল্পোন্নত দেশগুলোই দায়ী। যানবাহন, কলকারখানা, বিভিন্ন জ্বালানি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া, পানি দূষণ প্রভৃতির জন্য দায়ী এ দেশগুলো। এদের নির্গত এই কালো ধোঁয়ার ফলে ওজন স্তর ভারি হচ্ছে। পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে চলছে। অর্থাৎ, আমাদের নিজেদেরকে কার্বন এমিশন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

জলবায়ুর পরিবর্তন যে আমাদের জীবনকে হুমকির মুখে ফেলবে সে সম্পর্কে আমাদের জনমত সৃষ্টি করতে হবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ শিল্পোন্নত দেশগুলো যদি তাদের কার্বন এমিশন না কমায় তবে আমাদের পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে সমস্যা আসবে সেটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে। ০



খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ (অর্থনীতিবিদ)

জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ উন্নত দেশে। তাদের ওখান থেকে যে শিল্প বর্জ্য এবং দূষণ সারা পৃথিবীকেই আক্রান্ত করেছে। সে কারণে মূলত জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে যা কাঙিক্ষত নয়। শুধু বাংলাদেশের বা এরকম ছোট দেশের পক্ষে একক শক্তিতে করা দুষ্কর। এ কারণে উন্নত এবং ধনী দেশগুলোর সহযোগিতায় একটি বৈশ্বিক পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রয়োজন। এজন্য বিষয়টি জাতিসংঘের উদ্যোগে এবং তত্ত্বাবধানে অগ্রসর হলে সুফল পাওয়া যাবে। তবে বাংলাদেশ এরজন্য বসে না থেকে একটি দেশীয় সহায়ক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। এরমধ্যে বনাঞ্চলের বনায়ন এবং সামাজিক বনায়নের ওপর অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাছাড়া দূষণ প্রক্রিয়াকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার জন্যও ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। ০



ড. আতিউর রহমান (অর্থনীতিবিদ)

বিশেষ করে জাতিসংঘের উদ্যোগে যে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল তৈরি করা হয়েছে তাদের ৪র্থ রিপোর্টে বেশ জোরের সঙ্গেই বলা হয়েছে যে, সারা বিশ্বেই উষ্ণতা বাড়ছে এবং সেই কারণে সমুদ্র পিঠ উপচে উঠছে, অন্যদিকে পর্বত শৃংঘের বরফ গলে পড়ছে। এসবের প্রভাবে আবহাওয়ার চরম পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যেমন- শীতকালে শীত কম, গরমকালে গরম বেশি, কোন কোন সময় বিশেষ কোন ঋতু খুঁজেই পাওয়া যায় না। ঘূর্ণিঝড়, খরা, বন্যা, এগুলোর প্রকোপ বাড়ছে। এগুলোর কোন সুনির্দিষ্ট প্যাটার্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের মতো সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশগুলোর উপর। বিশেষ করে এসব দেশের কৃষি, বনজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ, ব্যাপকভাবে হুমকির মধ্যে পড়েছে। গরীব মানুষ এসব খাতের উপর নির্ভর করেই বেঁচে থাকে। সুতরাং যদি জলবায়ুর এই পরিবর্তনের সাথে আমাদের খাপ খাওয়াতে হয় তাহলে নতুন করে আমাদের উন্নয়ন কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কি করে বেঁচে থাকা যায়, কেমন ঘর তৈরি করা উচিত, কেমন ফসল ফলানো উচিত, কেমন আশ্রয় কেন্দ্র তৈরী করা উচিত এসব বিষয় নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত করতে হবে।

জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে যে সব ক্ষতি হচ্ছে বা হবে এর জন্য আমাদের মতো দেশগুলোর গরীব মানুষ মোটেও দায়ী নয়। উন্নত দেশে মানুষের বিলাসী জীবন চলার মূল্য গুণতে হচ্ছে আমাদের মতো গরীব মানুষদের। সুতরাং নতুন করে বাঁচবার যে কৌশলের কথা আমরা বলছি, এরজন্য সম্পদের যোগান উন্নত বিশ্বকেই দেওয়া উচিত। একইসঙ্গে তারা যেনো তাদের বিলাসী জীবনের ধারা পাল্টায় সেই চাপও আন্তর্জাতিক মহলে অব্যাহত রাখতে হবে আমাদের। নতুন এই বাস্তবতায় আমাদের দেশের সরকার শুধু নয়, প্রতিটি এনজিও, স্থানীয় সরকার, ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং আপামর জনসাধারণকে নতুন করে ভাবতে হবে এবং নতুন পথে চলবার জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এখানে বলে রাখা ভাল যে, বাংলাদেশের মানুষ জলবায়ুর পরিবর্তনের বিষয়টি খুব ভাল করেই বুঝেন, গণমাধ্যমকে এজন্য ধন্যবাদ দিতেই হয়। যদি আমরা জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংগঠনের সমর্থন পাই নিশ্চয়ই জলবায়ুর পরিবর্তনের এই সংকট মোকাবেলা করতে যথেষ্ট দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবো। বাংলাদেশের সংগ্রামী মানুষের সৃজনশীলতাকে পুঁজি করেই আমাদের এগুতে হবে। এই পথ চলায় সারা বিশ্বের সচেতন মানুষকে আমরা পাশে পেতে চাই। আমাদের সকল পরিকল্পনা, বাজেট এবং বিনিয়োগে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি মূলে রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাই। ০



সাদেক খান (সাংবাদিক)

একটা জাতিরাষ্ট্র হিসেবে আমাদের অবস্থান খুবই নাজুক হয়ে পড়বে জলবায়ু পরিবর্তনে। আমরা সেই সব উপকূলীয় বা দ্বীপাঞ্চলের মধ্যে পড়ি, যেগুলো সমুদ্র স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। অন্যদিকে পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বরফ গলায়, বন্যায় বার বার তলিয়ে যাওয়ার আশংকাও আমাদের রয়েছে। এভাবে আমরা যে একদিকে হিমালয়ের বরফগলা আর অন্যদিকে সমুদ্রের স্ফীতি এই দুয়ের যাঁতাকলে আমরা পিষ্ট। কাজেই বাংলাদেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অভিশাপ মুক্ত হতে অবশ্যই অনেক কিছু করার আছে। আমাদের কার্বন গ্যাস নিঃসরণ খুবই নিম্নমাত্রার। আমাদের যে বন বেষ্টনী বা উদ্ভিদ বেষ্টনী রয়েছে যা কার্বন গ্যাস নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে সহায়ক। আমাদের মূল সমস্যাই হচ্ছে ভূমির তুলনায় জনসংখ্যার বিপুল চাপ। আমাদের আর একটি সুবিধা রয়েছে সেটা হচ্ছে সমুদ্রে বাংলাদেশের মহিসোপান বহুদূর পর্যন্ত অগভীর। এই অগভীর মহিসোপানই সুনামির আঘাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করে। এই মহিসোপান আশ্রিত সুন্দরবন ঘূর্ণিঝড় থেকেও বাংলাদেশকে অনেকাংশে রক্ষা করেছে।

আমাদের এখন অন্যতম কাজ হবে এই সুন্দরবন পুনরুদ্ধারের জন্য বিশ্ব পরিবেশ এবং ঐতিহ্য তহবিলের সহায়তা নিয়ে ব্যাপকভাবে উপকূলীয় বনায়ন করা। একই সঙ্গে অগভীর মহিসোপান থেকে আমাদের ভূমি উদ্ধার করতে হবে। যে ভূমিকে আমরা ক্রমান্বয়ে কৃষি সম্প্রসারণ করতে পারি এবং হিমালয়ের বরফ গলা পানির প্রবাহকে বিস্তৃর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে দিয়ে তার সদ্ব্যবহার করতে পারি। এসবই ভূ-তাত্ত্বিক কারিগরি সাপেক্ষ। আমাদের বেঁচে থাকতে হলে আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অবকাঠামোগত ব্যাপক ভূ-তাত্ত্বিক কারিগরি পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে এবং যে সমস্ত শিল্পোন্নত দেশের ভোগের কারণে আকাশের ওজন স্তর ছিদ্র হয়ে আমরা পরিবেশ বিপত্তির সম্মুখীন, সেইসব দেশকে আমাদের ভূ-তাত্ত্বিক কারিগরি ব্যয় বা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেবার দাবি করতে হবে। ০



ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ (চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ)

গ্রীনহাউজ গ্যাস বায়ুমন্ডলে পুঞ্জিভূত হওয়ার ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সমুদ্রস্ফীতি ঘটতে শুরু করেছে। আন্ত:রাষ্ট্রীয় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যানেল (আইপিসিসি)-এর ২০০৭ সালে প্রকাশিত চতুর্থ মূল্যায়ন থেকে জানা যায়, এটি প্রায় নিশ্চিত যে, বিগত শতাব্দীর শেষ দিকের তুলনায় বর্তমান শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক গড় উষ্ণতা ১ দশমিক ৮ ডিগ্রী থেকে ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস এবং সমুদ্রস্ফীতি ১৮ সেন্টিমিটার থেকে ৫৯ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বেড়ে যাবে। দেখা যাচ্ছে মনুষ্যসৃষ্ট এই জলবায়ু পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে এবং দ্রুততর হচ্ছে। এর ফলে সারা বিশ্বেই বিরূপ প্রভাব পড়বে তবে দরিদ্র দেশসমূহই বেশি আক্রান্ত হবে। গঙ্গা-ব্রক্ষ্মপুত্র-মেঘনা এই তিনটি বৃহৎ নদী অববাহিকার সর্বনিম্নে অবস্থিত বাংলাদেশের এক বিশাল অংশ সমুদ্র থেকে সামান্য উঁচুতে অবস্থিত। অত্যন্ত ঘনবসতির (প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১০০০ জন) এদেশে দারিদ্র্য প্রকট, জনসক্ষমতায় ঘাটতি ব্যাপক, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতাও ব্যাপক, এবং সমন্বিত উন্নয়ন ও জলবায়ু নীতি ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোর বিভিন্ন দিক অনুপস্থিত অথবা দুর্বল। এছাড়া উপর্যুক্ত তিনটি অববাহিকায় বছরে যত পানি উৎপাদিত হয় তার ৯২ শতাংশ বাংলাদেশের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়ে আর এদেশের দীর্ঘ উপকূল এবং দেশের অভ্যন্তরে অনেক নিম্নাঞ্চল রয়েছে। এসমস্ত কারণেই বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন-উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশসমূহের অন্যতম। জার্মানওয়াচ-এর ‘বৈশ্বিক জলবায়ু সংক্রান্ত ঝুঁকিসূচক ২০০৮’ থেকে দেখা যায়, প্রাকৃতিক ক্ষয়-ক্ষতির কারণে ১৯৯৭-২০০৬ সময়ের বিবেচনায় পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দশটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাঁচটি দেশ যথাক্রমে ঃ হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম ও ডোমিনিকান রিপাবলিক। বাংলাদেশে ২০০৭-এ দুটি বিধ্বংসী বন্যা ও একটি খুবই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ঘটে গেল। এগুলো সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘটেছে বলা না গেলেও, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এগুলোর ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে তা জোর দিয়ে বলা যায়। ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাংলাদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যা, মারাত্মক ঘূর্ণিঝড় এবং কোনো কোনো অঞ্চলে খরা আরো ঘনঘন ঘটবে তা প্রায় নিশ্চিত। সমুদ্রস্ফীতির ফলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়তে পারে এবং প্রবল বন্যার কারণে নদীভাঙ্গন আরো ব্যাপক ঘটবে; ফলে লাখো মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে পড়বে। বাংলাদেশে একদিকে কৃষি জমি কমে যাচ্ছে এবং অপরদিকে ২০৫০ সাল নাগাদ কৃষি উৎপাদনশীলতা অনেক কমে যাবে বলে আইপিসিসির মূল্যায়ন থেকে প্রতীয়মান হয়। ফলে যেমন চলছে তেমন চলতে থাকলে এই শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ বাংলাদেশে এক ভয়াবহ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিবে। বন্যা, ঘূর্র্ণিঝড়সহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বাংলাদেশে ফসল, ঘরবাড়ি, অবকাঠামো ঘনঘন ধ্বংস হওয়ার ফলে একদিকে ত্রাণ ও পুনর্বাসনে ব্যস্ততা ও সম্পদ ব্যয় বাড়বে এবং অপরদিকে দেশে উন্নয়ন ব্যাহত হবে। দরিদ্র মানুষ নিঃস্ব এবং অদরিদ্র দরিদ্র হতে থাকবে। বাংলাদেশে জীববৈচিত্র্য দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করেছে; ভবিষ্যতে তা আরো দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ঘটতে পারে। কাজেই পরিবেশ ও অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান সংকটের মুখোমুখি হতে থাকবে।

দেখা যাচ্ছে যে, যেমন চলছে তেমন চলতে থাকলে বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সংকট অদূর ভবিষ্যতে দ্রুত ঘনীভূত হবে। কাজেই এক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণে কালক্ষেপণের সুযোগ আর বাংলাদেশের সামনে নেই। জলবায়ু পরিবর্তন-উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলার ব্যবস্থা গ্রহণ একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি একটি প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে জাতীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি; বিদ্যমান অবস্থার যথাযথ মূল্যায়ন এবং সেই ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন প্রক্রিয়ার আওতায় নীতিনির্ধারণ, কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন; এবং যে কর্মকান্ড হাতে নেয়া হয় সময়ে সময়ে তার পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করতে হবে যাতে প্রয়োজনে ভুল পথ পরিহার করে সঠিক পথে প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়। জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা যে সকল বিষয়ের উপর নির্ভরশীল সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: বাস্তবতার যথাযথ মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় তথ্যের প্রাপ্তি, অর্থনৈতিক সঙ্গতি, মানবদক্ষতা, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির প্রাপ্যতা, যথাযথ আইনি ব্যবস্থা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং যারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন তাদের সময়ের বিবেচনা (অর্থাৎ শুধু স্বল্পমেয়াদে নয়, দীর্ঘমেয়াদে চিন্তা-ভাবনা তাদের মধ্যে থাকতে হবে)। এসকল বিষয় বিবেচনায় নিলে দেখা যাবে যে, বাংলাদেশে এই সক্ষমতা খুবই নিচু পর্যায়ের।

অতি দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে না পারলে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিসমূহ মোকাবেলায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক পুন:র্বিন্যাসে অগ্রগতি ঘটবে না। ফলে বাংলাদেশ বর্তমানে যে নানান ঝুঁকির সম্মুখীন তা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে আরো বৃদ্ধি পাবে। গভীর সংকটের এই পদধ্বনি আমাদের আমলে নিতেই হবে আর উত্তরণের লক্ষ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় যে কালোমেঘ ঘনিয়ে আসছে দেখা যাচ্ছে তা সময়ে দেশের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে।

যেহেতু উন্নত দেশসমূহ মনুষ্যসৃষ্ট এই জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী তাই এর অভিঘাত মোকাবেলায় বাংলাদেশের এবং ভুক্তভোগী অন্যান্য দরিদ্র দেশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও প্রযুক্তি নিয়ে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

যদিও গ্রীনহাউজ গ্যাস নি:সরণ আজই সম্পূর্ণ বন্ধ করা যায় তবুও যে পরিমাণ গ্রীনহাউজ গ্যাস বায়ুমন্ডলে পুঞ্জিভূত হয়ে আছে তার ফলে এই শতাব্দী ধরে পৃথিবী গরম হতে থাকবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন দ্রুত ঘটতে থাকবে। কিন্তু গ্রীনহাউজ গ্যাস উৎসারণ বেড়েই চলেছে। তবে এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে এক্ষুণিই গ্রীনহাউজ গ্যাস নি:সরণ দ্রুত কমিয়ে আনা শুরু করতে হবে। এ সংক্রান্ত কিয়োটা প্রটোকল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অংশগ্রহণ না করায় তেমন কোনো কাজে আসেনি। এই চুক্তির মেয়াদ ২০১২ সালে শেষ হবে। একটি নতুন চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে ইন্দোনেশিয়ার বালিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ভবিষ্যতে গ্রীনহাউজ গ্যাস নি:সরণ কমিয়ে আনা, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতসমূহের সঙ্গে খাপ-খাওয়ানোর ব্যবস্থা জোরদার করা, এবং এতদসংক্রান্ত প্রযুক্তি ও আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য একটি রোডম্যাপ গ্রহণ করা হয়েছে। উন্নত বিশ্ব, বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য জি-৮ এর সদস্য দেশগুলোর সদিচ্ছা থাকলে এবং চীনসহ যে কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশ যথেষ্ট এবং ক্রমবর্ধমান গ্রীনহাউজ উদগীরণ করছে সেদেশগুলো সহায়তা করলে জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনায় (অর্থাৎ গ্রীনহাউজ গ্যাস উৎসারণ কমানো, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলা; উন্নয়নশীল, বিশেষ করে দরিদ্র এবং সর্বাধিক ভুক্তভোগী দেশগুলোকে উন্নত বিশ্বের আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া) উপযোগী আন্তর্জাতিক সমঝোতা হতে পারে। কিন্তু সমঝোতাই সব নয়; সমঝোতা হলে তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় শুধু দরিদ্র দেশসমূহ নয় গোটা পৃথিবীর মানুষকে, এমনকি পৃথিবীটাকেই ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হবে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশসমূহকে এক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের জন্য উন্নত বিশ্বের ওপর জোরদার চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।০



ধীরাজ কুমার নাথ (সাবেক সচিব ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা)

বৈশ্বিক উষ্ণতায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী গুরুতর সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত হতে চলেছে। মেরু অঞ্চলে বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। আশংকা করা হচ্ছে জীব প্রজাতির এক তৃতীয়াংশ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যাভাবের অশনি সংকেতের সম্ভাবনা প্রকট হয়েছে। আইপিসিসি-এর এই হচ্ছে উপসংহার।

গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমণ হ্রাস অথবা আন্তর্জাতিক কার্বন বাণিজ্য, কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসের নির্গমণ সবচেয়ে ক্ষতি করবে আমাদের মতো দরিদ্র দেশসমূহকে। আমাদের সবুজ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যাপকভাবে কৃষককুল হারাবে শস্য উৎপাদনের গতি, দেশের প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পাবে দ্রুত গতিতে। বালি সম্মেলন আমাদেরকে কোন সুনির্দিষ্ট পথ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। উন্নত বিশ্ব আমাদের জন্য উৎকক্তিত নয় বলে মনে হয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রতিবছর জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় অথবা সুনামির মতো ভয়াবহতা আমাদের অর্জিত অগ্রগতিকে শুধু ব্যাহত করবে না, জানমালের উপর আঘাত হানতে পারে বারবার। তাই আবহাওয়া পরিবর্তনের সমস্যা বাংলাদেশের মতো সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য ব্যাপক সমস্যা হিসাবে দেখা দিতে পারে। নিরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অথবা সবই প্রকৃতির খামখেয়ালির উপর ছেড়ে দিলে চলবে না। আবহাওয়া বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদেরকে নিয়ে এখনই শুরু করতে হবে ব্যাপক আলোচনা, দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা। আবহাওয়ার সতর্ক বার্তার ক্ষেত্রে আনতে হবে ব্যাপক পরিবর্তন। দুর্যোগকালে উপকূলীয় মানুষ ও পশু সম্পদকে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের মাস্টার প্ল্যান তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে এজন্য একটি কমিশন গঠন করতে হবে জরুরী ভিত্তিতে। বৈশ্বিক রূপান্তর শুধু আমাদের দারিদ্র্য বিমোচন ও সহস্রাব্দের লক্ষ্য অর্জনের কর্মসূচিকে ব্যাহত করবে না, আমাদের দেশের ভূখন্ডেরও পরিবর্তন সাধন করতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আবহাওয়া পরিবর্তনের সমস্যাকে অন্যতম সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করার এখনই সময়। ০


ওয়ালিউর রহমান (সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাষ্ট্রদূত)

জলবায়ু পরিবর্তনের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির কথা মাথায় রেখে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে যেটা করা দরকার তা হলো ১৯৯৩ সালে প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী ১২ খন্ডের যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন, সেগুলো হলো-১, প্রিভেনশন, ২. রেসকিউ, ৩. রিলিফ এবং ৪. রি-অ্যাবিলিয়েশন। প্রাকৃতিক দুর্যোগকে একেবারে বন্ধ করা যাবে না তবে তার হাত থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যতটা পারা যায় কমাতে হবে। ১৯৮৫ সালে উড়িরচরে যে ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় হলো, সে সময় যে সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছিল ভারতীয় প্রযুক্তির সাহায্যে। সেই আদলেও জামিলুর রেজা চৌধুরী বলেছিলেন সমগ্র উপকূলে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করতে হবে। উড়িরচরে যেসব সাইক্লোন শেল্টার তৈরি করা হয়েছিলো সেগুলো নদীর পানিতে ক্ষয়ে গিয়েছিল। আমাদের দেশের জন্য ৩ হাজার সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণের প্রয়োজন থাকলেও নির্মিত হয়েছিল ২ হাজার সাইক্লোন শেল্টার।

আমার বক্তব্য হলো, বিশেষ করে আই.পি.সি.সি টোকিওতে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল তা ২০১২ সালে শেষ হয়ে যাবে। বালি সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ রাজী হয়েছে তারা ২০২০-এর মধ্যে কার্বন এমিশন কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে। বিশ্ব জলবায়ুর যে পরিবর্তন হচ্ছে তার কারণ আমাদের দেশ না হলেও, এর ভুক্তভোগি আমরা। এর ফলে বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ৩০০ জন আইপিসি এবং আল গোর নোবেল বিজয়ী, তারা এশিয়া এবং বাংলাদেশ ভুক্তোভোগি হবে সে বিষয়টি তুলে ধরেছেন। সমুদ্রের পানির স্তর ১ সে. মি. বাড়লে- মালদ্বীপ, শ্রীলংকা, আমেরিকা, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ডুবে যাবে। কার্বন কমানোর উপায় নিয়ে আল গোর বলেছিলেন এবং সেজন্য প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

আমাদের দেশের দক্ষিণ উপকূলকে বাঁচানোর জন্য নেদারল্যান্ডের মতো বাঁধের ব্যবস্থা করতে হবে। সম্প্রতি সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত সুন্দরবনের এক-তৃতীয়াংশ বাঁচাতে এবং সর্বোপরি দক্ষিণাঞ্চল রক্ষার্থে সন্দ্বীপ থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত উপকূলে বাঁধের ব্যবস্থা করতে হবে। আমরা যদি নেদারল্যান্ড সরকারের সাথে যোগাযোগ করি তবে নেদারল্যান্ড সরকার আমাদের প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা দেবে এবং এতে করে আমরা আশু ক্ষতি থেকে দেশকে রক্ষায় সক্ষম হবো। ০


বিপ্রদাশ বড়ুয়া (পরিবেশবিদ)

জলবায়ু পরিবর্তনের রোধে প্রথম কাজ হলো বনায়ন করতে হবে। এখন আমাদের বন আছে ৮ শতাংশ এলাকায়। এটাকে অন্ততপক্ষে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করতে হবে। নদীগুলোর নাব্যতা বাড়াতে হবে। ঝিল, জলাধার, পুকুর, নদী যেগুলো হারিয়ে গেছে সেগুলোকে উদ্ধার করা এখন খুবই জরুরী। প্রথম কাজ হচ্ছে কোন গাছ কাটা যাবে না। দেশের সমস্ত গাছের মালিক হবে রাষ্ট্রপতি।

সিডর, সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এগুলো রোধ করতে উপকূল বরাবর চার মাইল গভীর বন সৃষ্টি করতে হবে। আমি মনে করি সেই বনে কোন মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবে না। গভীর নলকূপ থেকে পানি নিয়ে যথেচ্ছ ব্যবহার অচিরেই বন্ধ করতে হবে এবং নদী থেকে পানি এনে সেচ কাজ করতে হবে। ০

No comments: