Monday, December 24, 2007

হবিগঞ্জে বৃক্ষ নিধন অব্যাহত বনাঞ্চল বিরান হওয়ার উপক্রম

দৈনিক ইত্তেফাক, ডিসেম্বর ২৫, ২০০৭
।। হবিগঞ্জ সংবাদদাতা ।।

হবিগঞ্জ জেলার বনাঞ্চলে মূল্যবান বৃক্ষ নিধন অব্যাহত থাকায় বিস্তীর্ণ পাহাড়িয়া এলাকা বিরান হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টির কার্যক্রমে ভাটা পড়লেও প্রতিদিনই জেলার সংরক্ষিত বনাঞ্চল হতে মূল্যবান সেগুন, জারুল, মেহগিনি, শাল, চামল, মালাকানা, একাশিয়া গাছ চুরি হয়ে যাচ্ছে। বনাঞ্চল সংলগ্ন কোন কোন গ্রামে সংঘবদ্ধ কাঠ চোরদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি গড়ে উঠেছে। জেলার মাধবপুর, চুনারুঘাট, বাহুবল ও নবীগঞ্জ উপজেলায় সর্বমোট বনাঞ্চলের পরিমাণ ২৮০৭৫ একর। কিন্তু বর্তমানে জেলার চারটি বন রেঞ্জের অধীন কালেঙ্গা, পুটিজুরী, রেমা, রশিদপুর, ছনবাড়ী, সাতছড়ি, তেলমাছড়া, শাহ্পুর, জগদীশপুর, শালটিলা, শাহজীবাজার বিটের অধীন বনাঞ্চলে যে হারে বৃক্ষ নিধন চলছে তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই জেলার বনাঞ্চল উজাড় হয়ে পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে জেলার ২৪টি চা-বাগানের মূল্যবান শেড ট্রি (ছায়াবৃক্ষ) ব্যাপকভাবে চুরি হচ্ছে।

চোরাই কাঠ প্রতিদিন বিভিন্ন যানবাহনে কিংবা নৌপথে পাচার হয়ে যাচ্ছে। সাবেক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সাতছড়ি শায়েস্তাগঞ্জ, ভুনবীর প্রভৃতি স্থানে অবস্থিত ফরেস্ট চেক পোস্টগুলো চোরাই কাঠ পাচার রোধে ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। বৃটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত চুনারুঘাট ফরেস্ট চেক পোস্টটি কয়েক বছর পূর্বে উঠিয়ে দেয়া হয়। মাধবপুরের নিকটে মহাসড়কে চেক পোস্ট না থাকায় জেলার বনজ সম্পদ অবাধে পাচার হয়ে যাচ্ছে।

হবিগঞ্জ জেলার বনাঞ্চলের বিট অফিসসমূহে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মী না থাকায় প্রায়ই কাঠ চোরদের মোকাবেলা করা বনকর্মীদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এছাড়া প্রভাবশালী পাচারকারী চক্র কাঠ পাচারে মদদ দিয়ে থাকে। অনেক সময় ফ্রি লাইসেন্সের সুযোগে ব্যাপক হারে কাঠ পাচার হয়। জেলার বনাঞ্চল থেকে কাঠের আসবাবপত্র তৈরি করেও দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

No comments: