Monday, March 26, 2007

একটি ঘুঘু পাখির মৃত্যু

রাত ১:৪৬: বিশ্বকাপ ক্রিকেটে আজকে বাংলাদেশের খেলা ছিল বারমুডার সাথে। গতরাত থেকেই অধীর আগ্রহে বসে ছিলাম সকালে উঠে ইন্টারনেটে খেলা দেখব বলে। সকালে আধো ঘুমের মাঝে ঘুঘুর ডাক শুনতে পেলাম। শীতের শেষ সময় এখন। ঘুঘুর ডাক তাই অবাক করল না। ঘুমের ঘোরে অনেক পুরনো ঘটনা মনে পড়ল। আশ্চর্য মানুষের মন। কোন কারণ ছাড়াই মন ঘুরে এল বোনারপাড়ায় সেতু ভাইদের বাসায় বেড়ানোর স্মৃতি। তখন আমি অনেক ছোট, হয়তো ওয়ান বা টু-তে পড়ি। মনে আছে মাখন ভাই এয়ারগান নিয়ে কোথায় যেন যেতেন আর ঘুঘু শিকার করে আনতেন। আহারে কত ঘুঘু খেয়েছি না বুঝে!

বছর দুই আগে তখন আমি হ্যমিলটনে। কানাডায় এসেছি বছর মত হয়। অগাস্টের শেষের দিকে হবে। বিকালের রোদ সোনা ছড়িয়ে দিয়েছে স্টারলিং স্টৃটের চারপাশে। ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়ে তাই হাঁটতে শুরু করি। অনেকখানি এসে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। এখানে রাস্তার পাশে বসার জন্য লোহার বেঞ্চ থাকে। অনেকটা আমাদের দেশে বড় পার্কে যেমন সিমেন্টের বাধানো বেঞ্চ তেমন। হঠাৎই একটা ঘুঘু রাস্তার উপরে খুব নিচ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় গাড়ির সাথে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেল। ঘটনা একদম আমার সামনে। ঘুঘুটি ঠিক আমার সামনেই রাস্তার উপর পড়ে ওড়ার চেষ্টা করল। সম্ভবত ডানায় আঘাত পেয়েছে তাই উড়তে পারছেনা। আমি এগিয়ে গিয়ে হাতে তুলে নিলাম। এসে বেঞ্চে বসে দেখতে থাকি আঘাতের পরিমান। আঘাত ততটা মনে হলনা। কিন্তু হঠাৎই ঘুঘুটি হা করে চোখ বন্ধ করে ফেলল। আমি ব্যাগ থেকে পানির বোতল বের করে মুখে ধরলাম। একটুও বোধহয় খেল না। মাথায় পানি দিলাম, কোন সাড়া নেই। আমার হাতের উপরের ঘুঘুটি নিথর হয়ে পড়ল। ততক্ষণে বাস এসে পড়েছে। নি:শব্দে মৃত ঘুঘুটি ডাস্টবিনে রেখে দিলাম। রক্তমাখা হাত সবার অগোচরে লুকিয়ে আমি বাসে উঠলাম। ঘুঘুটির বুকের রক্তে যেন আমার হৃদয় রঞ্জিত হল।

1 comment:

aman said...

আপনার লিখাটা পড়ে আমার কবুতরটার কথা মনে পড়ে গেল।
স্কুলের শেষের দিকে বাসায় এক জোড়া কবুতরের বাচ্চা কেনা হয়েছিল খাওয়ার জন্য। তখনও সেগুলোর পালক ওঠেনি, কেবল হলুদ হলুদ রোম। খাওয়া যায় বলেন?
খুব আদরে বড় করতে থাকি। উড়তে শেখার পরেই একটি কাকে নিয়ে গেল। অপরটি ছিল। বাসায় ঘুরত। কোন ভয় ছিল না। খাওয়ার সময় ভদ্রলোকের মত টেবিলের পাশে ঘুরঘুর করত। টেবিলে উঠত। একটু খাবার পর যখন পেট ভরত তখন খুব ভারিক্কি চালে চলে যেত, কখনও পায়ে ঠোকাত। এভাবেই চলছিল।
তখন কলেজে। একদিন সকালে নাস্তার টেবিলে খাওয়াচ্ছিলাম। খেতেও পারত! হঠাৎ দেখি বমি করল। চিন্তায় পড়ে গেলাম। ধীরে ধীরে নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছিল। তাড়াতাড়ি জিপে করে ছুটলাম পশু হাসপাতাল। গুলিস্তান। জানিনা কেন এত কান্না পাচ্ছিল। ডাক্তার কিছু করতে পারবে না জানালেন। অনেক অনুনয় করলাম। যদি কিছু করা যায়। সামান্য কবুতর, তাই হয়ত তার মন গল্ল না। ফেরার পথে আমার হাতের ওপর মারা যায়।
কি যে কষ্ট বোথাতে পারব না। কত যে স্মৃতী, তাতো বলে শেষ করতে পারব না। কবর দিলাম বাগানে।
সেই থেকে আজও কোন কিছু পুষতে ইচ্ছা করে না। সেই ঘুঘুটা যখন আপনার হাতে মারা যায়, আমি হয়ত কিছুটা বুঝতে পারছি তখন আপনার অনুভূতি কেমন ছিল।